নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে পরিবারতন্ত্র ও নয়া ফ্যাসিবাদকে বয়কটের আহ্বান

মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবার আগে পরিবাতন্ত্রকে ‘না’ বলতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ পরিবারতন্ত্রকে ভোটের মাধ্যমে উৎপাটন করতে হবে। এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তারেক রহমান হবে প্রধানমন্ত্রী। তার অবর্তমানে তার স্ত্রী ও কন্যা একই লাইনে দাঁড়িয়ে। বিএনপির এই অবস্থান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। 


রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সিভিল রাইটস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাংক্ষা বাস্তবায়নের নয়া চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায় : প্রেক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন’’- শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কী-নোট উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ.এম মোশারফ হোসেন। 


অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম। আরও বক্তব্য রাখেন নেক্সস ডিফেন্স এন্ড জাসিস্ট’র সভাপতি বিঃ জেঃ মোহাম্মদ হাসান চাখির, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, সুইডেনের ব্লেকিংয়ে ইনস্টিটিউট অন টেকনোলজির ড. এ.এম.এম শহীদুজ্জামান কোরেশী, রাঙ্গীমাটি ইউনিভার্সিটির ড. আবু তালেব, সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম.এ হাই (বীর মুক্তিযোদ্ধা), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার আতিউর রহমান। 


ড. আব্দুর রব আরও বলেন, নয়া ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ড ও বয়ান প্রদানকারীদের বর্জন করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের পর একটি দল স্থানীয় সরকারের বহু প্রতিষ্ঠান ফ্যাসিবাদী কায়দায় জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে, বিভিন্ন সরকারী অফিস আদালতের নিয়ন্ত্রন নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সময় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিচার বিভাগ নয়া ফ্যাসিবাদের কারণে আরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতে অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে আওয়ামী ডেভিল ফয়সাল আহমেদ জামিনে মুক্ত হয়ে শহীদ ওসমান বি হাদীকে খুন করে। পুরোনো ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে তিনি পরিবর্তেনর পক্ষে দেশবাসীকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। 


বক্তরা বলেন, আওয়ামী স্বৈরতান্ত্রিক এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে দেশের জনগণের নিশ্বাস যখন বন্ধ হয়ে আসছিল তখন ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ত্যাগের বিনিময়ে চব্বিশের ৫ আগস্ট সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস। জুলাই মাসের শুরু থেকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে লক্ষ লক্ষ মানুষ সরাসরি অংশগ্রহন করে। কোটি-কোটি মানুষ নৈতিক সমর্থন দেয়। ফলে দেশের জনগণের মনে একটি আশার সঞ্চার হয় যে, বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর এমন একটি দেশ যেখানে মানুষ প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে, দুঃশাসন ও দূর্নীতি বিদায় নিয়ে জাদুঘরে স্থান নিবে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের মাত্র দেড় বছরের মাথায় জনগণের এই আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। আশংকা হয় যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে দেশ পুনরায় দুঃশাসন ও দূর্নীতির জাহান্নামে পতিত হতে পারে। ফলে, সচেতন নাগরিক সমাজের উচিৎ এই মহা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদেরকে সংসদে পাঠানো যাদের ব্যক্তিগত জীবনে দুঃশাসন ও দূর্নীতির অভিযোগ নেই। যাদের হাতে জাদুরকাঠি না থাকলেও সততা, উন্নত স্মৃতিক চরিত্র, মানবতাবোধ ও নিখাদ দেশপ্রেম রয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেদেশের ১৮ কোটি মানুষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগিয়ে একটি উন্নত, কল্যাণমূলক ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনের মহাপরিকল্পনা। 


অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রমনা সমাজ কল্যাণ সোসাইটির চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার সুমনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।