ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে যখন দেশজুড়ে দলের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন, ঠিক সেই সময়েই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। রমজান পরিবহনের বাস আটক, মারধর, ভীতি প্রদর্শন ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবির ঘটনায় সরাসরি নাম এসেছে কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ইমনের বিরুদ্ধে।


ভুক্তভোগী পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস আটকে রেখে ‘মীমাংসা’র নামে কার্যত জিম্মি করে টাকা আদায় করেছেন এই নেতারা। এই ঘটনায় তাদের সহযোগী হিসেবে আহ্বায়ক সদস্য ফজলে হাসান নিয়ন এবং কথিত ‘সুপার ফাইভ’ গ্রুপের নামও উঠে এসেছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত বাসের যাত্রীভাড়া নিয়ে রমজান পরিবহনের এক হেলপার ও ঢাকা কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনার মধ্যমে। এই ঘটনার জের ধরে ছাত্রদলের একটি অংশ দলবদ্ধ হয়ে রমজান পরিবহনের ১৩টি বাস জোরপূর্বক ঢাকা কলেজের ভেতরে ঢুকিয়ে আটকে রাখে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে থানায় আলোচনা শুরু হলে সেখানে উপস্থিত হন সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ইমন এবং তাদের অনুসারী সিনিয়র নেতারা।


ভুক্তভোগীদের দাবি, মীমাংসার আড়ালে চাঁদাবাজি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে তাদের। তারা দাবি করেন, থানায় বা কলেজ গেটে মীমাংসার কথা বলা হলেও, মূলত বাস মালিক ও লাইনম্যানদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে টাকা আদায়ই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।


ভুক্তভোগী লাইনম্যান মোহাম্মদ শরিফ অভিযোগ করে বলেন, “মিল্লাদ ভাই আর ইমন ভাইয়ের নেতৃত্বে বসা হয়। বসার পরে আমাকে সাইডে নিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। এর আগে এক ছাত্র ১০ লাখ টাকাও চেয়েছিল। টাকা না দিলে গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।”


বাস মালিকরা জানান, 'ছাত্রদলের এই নেতারা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যে টাকা দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না। ছাত্রদের চিকিৎসা খরচ, মোবাইল মেরামত এবং বাসের স্টাফকে চাকরিচ্যুত করার মতো শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়।'


ভুক্তভোগী বাস মালিক মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, “মীমাংসার নামে মিল্লাদ ভাই, ইমন ভাই সবাই বসেন। পরে কলেজে নিয়ে গিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমি গরিব মানুষ, একটা গাড়ি দিয়েই আমার সংসার চলে। আমার কাছে ১ লাখ টাকা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ৯০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে জোর করেই টাকা দিতে হয়েছে।”


বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় যখন সারাদেশে দোয়া ও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, তখন দলের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের এমন চাঁদাবাজির অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থী ও দলীয় কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার পরিবর্তে শীর্ষ নেতাদের এমন অপকর্ম দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।