১৮ মাসের সংস্কারের তথ্য দিলো সরকার
ছবিঃ সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়ে সরকার ‘সংস্কার বই’ প্রকাশ করেছে। বইটিতে সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে।


প্রকাশিত বই থেকে জানা গেছে, গত দেড় বছরে রাষ্ট্র সংস্কারে প্রায় ১৩০টি নতুন ও সংশোধিত আইন এবং ৬০০-এর বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যার ৮৪ শতাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।


আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন রাষ্ট্র ছিল এক গভীর সংকটে। দীর্ঘ ১৬ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সবই ছিল বিধ্বস্ত। এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই শুরু হয় রাষ্ট্র সংস্কারের মহাযজ্ঞ।


১৮ মাসের কার্যক্রম একনজরে-


অর্থনীতি ও বাণিজ্য


জাপানের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে ৭ হাজার ৪০০ পণ্যের শুল্ক ছাড়াই রফতানির সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক হার ৩৭% থেকে ২০%-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। চীনের সাথে ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য খাতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।


বিচার বিভাগ


বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আদালতগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে মেধা ও স্বচ্ছতাকে প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


র‌্যাবকে পুনর্গঠন করে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’। ১ হাজার ২০০-এর বেশি বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পুলিশ বাহিনীকে মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।


গণমাধ্যম


গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়নি, বরং আগের সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া আউটলেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হয়েছে।


দুর্নীতি দমন


গত ১৮ মাসে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ ও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৪২টি মন্ত্রণালয়ে কেনাকাটার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।


জুলাই চার্টার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ


বইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ‘জুলাই চার্টার’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সাত মাসের রাজনৈতিক সংলাপের পর তৈরি হওয়া এই সনদটি এখন গণভোটের অপেক্ষায়। এটি ভবিষ্যতে দেশে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা ফিরে আসার পথ চিরতরে বন্ধ করবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রতিবেদনে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের জঞ্জাল ১৮ মাসে দূর করা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে আছে। অর্থনীতির চাকা সচল হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়াকে এই সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।


শেষে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজপথের সেই সাহসিকতাই এখন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।