আমরা যাত্রী, ককপিটে বসবে নাহিদ ইসলামরা :  শফিকুর রহমান
ছবিঃ সংগৃহীত

যুবকদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তোমরা বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যাও। নাহিদ ইসলামদের আগামীর বাংলাদেশের ককপিটে বসিয়ে দিবো। আমরা থাকবো যাত্রী। বাংলাদেশকে সঠিক পথে এরা এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট মাঠে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের যুব সমাজ মেধাবী এবং পরিশ্রমী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বাক বদলের জন্য বছরই যথেষ্ট। সুযোগ পেলে এই বছরে বাংলাদেশ যে মহাসড়কে উঠবে সেখান থেকে কেউ নামাতে পারবে না।

এ সময়ে তিনি বলেন, ৪৭ সালের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি পূরণ না হওয়ায় সৃষ্টি হয় ৭১। কিন্তু ৫৪ বছরেও সেই আকাঙ্ক্ষা পূরন হয়নি।  ২৪ এর পরে সেটি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।  আবু সাঈদ রাস্তায় নেমে বলেছিল, 'হয় আমার অধিকার দে না হয় গুলি কর।' রাস্তা ছাড়ে নি, বীরের মত বুকে পেতে নিয়েছিল। বার বার ১২ তারিখ ফিরে আসবে না। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছিল। সেই রক্তের ঋণ শোধ করার দিন হলো ১২ তারিখ। তরুনরা আজ জেগে উঠেছে।  আমরা কথা দিচ্ছি, তোমাদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ হলে তোমারা যেমন চেয়েছিলে আমরা তেমন জৌবনদিপ্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

৫ আগষ্ট এই জাতি আওয়ামী জাহেলিয়াত থেকে মুক্তি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যারা ১৫ বছর এই জালিমের জাতা কলে পিষ্ট ছিলাম তাদের মধ্যে কেও কেও নতুন অবস্থায় রাতারাতি জালিমের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারাও একই অপকর্ম শুরু করে দিলো। বেপরোয়া গতিতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছে, আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছে। এই ১৫ বছর যারা বাংলাদেশে ছিলেন না, ফিরে এসে তারাই এই মামলা বাণিজ্য করছেন। তিনি আফসোস করে বলেন, সন্তানদের বুকে নিয়ে জুলাইয়ে মানুষ কি এই জন্য লড়াই করেছিল। নতুন চাঁদাবাজ তৈরি হবে? ভূমিদখল শুরু হবে? আমরা সমাজের সর্বত্র ন্যয় বিচার দেখতে চাই।

বিএনপির দিকে ইঙ্গি করে তিনি বলেন, ৫৯ জন ব্যাংক ডাকাত কে মনোনয়ন দিলেন কেন? এদের বগলের তলায় আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতি দমনের কথা মানুষ বিশ্বাস করে না। জনগন দুর্নীতি চাঁদাবাজ, মামালাবাজ, দখলবাজ, আধিপাতব্যদদের গোলাম দের লাল কার্ড দেখাবে।

শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি আর ব্যাংক লুট করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে সেই টাকা ফেরত আনা হবে। এই পথে কেউ আবার হাটবে জাতী  সেটা দেখতে চাই না। দুর্নীতিবাজরা চুরির টাকা দিয়ে শশুর বাড়ীতে সম্পদের পাহাড় গড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নতুন শশুর বাড়ী আর তৈরি হতে দেব না।

জামায়াতের আমীর বলেন, প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদরে মা-বোনদের লাঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের  ইজ্জতের কোন নিরাপত্তা নেই। যে জাতী তাদের মা-দের সম্মান করতে যানে, আল্লাহ তাদের সম্মান  বাড়িয়ে দেন। সেই মাকে সম্মান না দেখানো বড় জুলুম। আমরা যদি দায়িত্ব পায় তাহলে নাগরিকদের জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জতের পাহারাদার হবো।

এ সময় তিনি ১১ দলের পক্ষ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে শাপলা কলি প্রতিক তুলে দেন। সময়ে তিনি বলেন, আপনারা জুলাইতে যেমন পাহারাদারী করেছেন, জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১২ তারিখ পর্যন্ত পাহারাদারী করুন।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ, আসনের নির্বাচন পরিচালক কুতুব উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, জাতীয় ছাত্র শক্তির সভাপতি জাহিদ হাসান সহ স্থানীয় ১১ দলীয় জোটের নেতারা।