হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি)।
কেপিসি জানিয়েছে, কৌশলগত এই জলপথে নিরাপত্তা সংকটের কারণে সাময়িকভাবে দৈনিক তেল উত্তোলন হ্রাস করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুতই উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সংস্থাটি আশা করছে, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
যদিও নতুন করে দৈনিক উৎপাদনের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি, সরকারি সূত্রে জানা গেছে— মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উৎপাদন কমানো শুরু হয়েছে। গত ১০ মার্চ কুয়েত মাত্র ৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রতিদিনের তেল ও তরল গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ বহন করে। এ কারণেই এটিকে ‘বৈশ্বিক জ্বালানির দরজা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে প্রণালীটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক ডজনের বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলার তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনস।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে তারা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে এবং হামলা অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি কুয়েতের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ দেশটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলা চালানো হচ্ছে, যদিও কুয়েত সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

