ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের সহজ ঘরোয়া উপায়
ছবিঃ সংগৃহীত

ডায়রিয়া অনেক সময় ভয় সৃষ্টি করতে পারে। তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় ধরে হালকা ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো বড় স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ থাকে না এবং এটি প্রায়ই নিজে থেকেই সেরে যায়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনীয় ডায়রিয়া প্রতিরোধী ওষুধ হাতে রাখলে তা দ্রুত উপশম দিতে পারে। ইমোডিয়াম (লোপেরামাইড) এবং পেপ্টো-বিসমল (বিসমাথ সাবস্যালিসিলেট) অন্ত্রে তরল চলাচলকে ধীর করে, যার ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।


প্রাথমিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু ঘরোয়া প্রতিকারও কার্যকরী:


১. পর্যাপ্ত হাইড্রেশন

ডায়রিয়ার সময় প্রচুর পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। হারানো তরল পূরণ করতে সাধারণ পানির পাশাপাশি চা, আপেলের রস বা ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ অন্যান্য পানীয়ও উপকারী।


২. ভাতের মাড়

ডায়রিয়ার জন্য ভাতের মাড় দ্রুত কার্যকর প্রতিকার। ১ কাপ চাল ২ কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিন এবং ভাতের মাড় পান করুন। এটি পানিশূন্যতা রোধ করে এবং মল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।


৩. বিশ্রাম ও আরোগ্য

ডায়রিয়ার ফলে দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। এই সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং পেটে উষ্ণ কম্প্রেস ব্যবহার করুন।


৪. সঠিক খাদ্যাভ্যাস

পনির, দুধ, কফি ও ওটমিলের মতো খাবার এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে সাদা ভাত, আলু জাতীয় স্টার্চযুক্ত খাবার এবং ব্লুবেরির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী।


৫. পেয়ারা পাতা

শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত পেয়ারা পাতায় ট্যানিন থাকে, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়রিয়ার সময়কাল কমায়।


৬. প্রোবায়োটিকস

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দই অন্ত্রে সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায় এবং অন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।


৭. শুকনো আদা

শুকনো আদা হজমশক্তি উন্নত করে এবং বিষক্রিয়া বা বমি ভাবজনিত ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকর। এক টুকরো চিবিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া যেতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হালকা ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো কার্যকর হলেও দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।