ঝালকাঠিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিরোধের জেরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার আনিসুজ্জামান চপল নামে এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকাল থেকে আটকৃত বিএনপি নেতা থানা হেফাজতে রয়েছেন।
সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঝালকাঠি পৌর শহরের তিন ঘাটলা এলাকার বাসা থেকে আনিসুজ্জামান চপলকে ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ আটক করে।
ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক এসআই আসাদুল আল গালিব মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানান, বিএনপি নেতা থানা হেফাজতে রয়েছেন।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান ছিল দীর্ঘদিন । এর ফলে রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কীর্ত্তিপাশা বাজারে এই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিলে ছাত্রদল নেতা আকাশ বেপারীসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর আনিসুজ্জামান চপলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। বাধা দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ছাত্রদল ও যুবদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।
এর আগে আনিসুজ্জামান চপলের বিরুদ্ধে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মী মো: সবুজ বেপারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের আহ্বানে সারা দেশে জুমা-পরবর্তী দোয়ার কর্মসূচি থাকলেও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন না থাকায় এই কর্মসূচি ঘিরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়।
নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছে,ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। আরেক পক্ষের দাবি, নির্বাচন সামনে রেখে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনার সূত্রপাত।
পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি রুজু হলে সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
ঘটনার বিষয় নিশ্চিত করে ঝালকাঠি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত জানিয়েছেন চপল থানা হেফাজতে রয়েছেন। তারা বলেন, দুই পক্ষের কাছ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

