যশোরে ছয় আসনে ৩৪ প্রার্থী চূড়ান্ত, আজ প্রতীক বরাদ্দ
ছবিঃ সংগৃহীত


এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া যাচাই-বাছাইয়ে ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩৪ জন প্রার্থী। জেলা নির্বাচন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর যশোরের ছয়টি আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ছয়টি আসনে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।


মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন— যশোর-১ (শার্শা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ এবং যশোর-৩ (সদর) আসনের এনসিপির প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ।


চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা


যশোর-১ (শার্শা):

জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান, বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান।


যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা):

স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের শামছুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, বাসদের ইমরান খান, এবি পার্টির রিপন মাহমুদ এবং বিএনপির সাবিরা সুলতানা।


যশোর-৩ (সদর):

বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, সিপিবির রাশেদ খান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন এবং জাগপার নিজামউদ্দীন অমিত।


যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর):

স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী এবং জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল।


যশোর-৫ (মণিরামপুর):

বিএনপির রশীদ আহমদ, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন, জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন এবং জাতীয় পার্টির এম এ হালিম।


যশোর-৬ (কেশবপুর):

জাতীয় পার্টির জিএম হাসান, ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান এবং বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ।


এদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে।


তিনি আরও জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


জেলায় ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন ১৪ হাজার ৮৬১ জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৮২৪ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৬৭৯ জন এবং পোলিং অফিসার ৯ হাজার ৩৫৮ জন।