বাংলাদেশি বয়কট থেকে সরে এলেন ভারতীয় হোটেল মালিকরা
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার আসার পরেই আবারও উষ্ণতা ফিরতে শুরু করেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে। আর পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে ভোল বদল করেছে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা। দীর্ঘ প্রায় ১৩ মাস পর ‘বাংলাদেশ বয়কট, বাংলাদেশি বয়কট’ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে শিলিগুড়ির হোটেল মালিকদের সংগঠন। বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আবারও হোটেলের দরজা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে গ্রেটার শিলিগুড়ির হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন।


সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন হোটেল মালিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা জানান, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক হতে করেছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক। ভারতবিদ্বেষী প্রচার ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনাও কমেছে। আবারও আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করেছে। তাই বাংলাদেশ বয়কট, বাংলাদেশি বয়কট থেকে তারা সরে আসছে। বাংলাদেশিদের আবারও আগের মতো শিলিগুড়ির হোটেল-মোটেলগুলোতে পরিসেবা দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন।


২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে বাংলাদেশ-নির্ভর ভারতীয় পর্যটন শিল্প এলাকাগুলোতে আয় একেবারেই তলানিতে নেমে আসে। এরমধ্যে হাদি হত্যা ও দিপু দাসের হত্যার দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ শুরু হয় ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়। দিল্লি, আগরতলা ও কলকাতা দূতাবাস নিয়ন্ত্রিত শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টারে বিক্ষোভ দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারের নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে দিলে রাতারাতি বন্ধ করে দেয়া হয় দিল্লি আগরতলা দূতাবাসের সব ভিসা সার্ভিস ও কনস্যুলার সেবা। বন্ধ করে দেয়া হয় শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টার।


চিকেন নেক খ্যাত ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর নিরাপত্তা ছাড়াও পর্যটনের জন্য ভারত বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের পূর্বের সাত রাজ্য ছাড়াও নেপাল, ভুটান, চীন ও বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই শিলিগুড়ি করিডোর। বাংলাদেশের ফুলবাড়ি ও হিলি সীমান্তের সীমান্ত বাণিজ্য এই এলাকার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। স্বাভাবিকভাবেই ভারতের এই এলাকায় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে অস্থির পরিবেশের কারণে গ্রেটার শিলিগুড়ি অঞ্চলে হোটেল-মোটেলে বাংলাদেশি বয়কট, বাংলাদেশ বয়কটের ডাক দেয়া হয়। ১৩ মাস পর এর পরিস্থিতি আবারও আগের মতো স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এই এলাকার হোটেল মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে।


কলকাতা দূতাবাস সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দিল্লি ও আগরতলা দূতাবাসের সঙ্গে একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টার আবারও চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুতই শিলিগুড়িতে কার্যক্রম আবারও শুরু করবে শিলিগুড়ির বাংলাদেশ ভিসা সেন্টার।