ফের অস্থির জ্বালানি তেলের বাজার
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের শঙ্কায় অস্থির আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার। এক মাসের ব্যবধানে ৭ ডলার বেড়েছে এক ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম। এরমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তেল পরিবহনের অন্যতম জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের শঙ্কায় বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস, জ্বালানি তেলের দাম উঠতে পারে ১০০ ডলারে। এর প্রভাবে কমতে পারে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি।


বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করলে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। পারস্য উপসাগর আর গালফ অব ওমানের মাঝে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে ইরান দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রপ্তানি করে। আর পুরো বিশ্বে জ্বালানি তেল সরবরাহ হয় দৈনিক ২ কোটি মেট্রিক টন। এরমধ্যেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।


সুইস আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলছে, কোনোভাবে যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, সারাবিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জাহাজের রুট দিয়ে ট্যাঙ্কারগুলো সারাবিশ্বে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের ২৭ শতাংশই হয় এই রুট দিয়ে।


ইরান এই রুট দিয়ে ৪ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। যার বেশিরভাগই আসে এশিয়ায়। এক মাস আগেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৪ ডলার। সেই দর এখন উঠেছে ৭১ ডলারে। যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ে, প্রবৃদ্ধি কমতে পারে ১ শতাংশ পর্যন্ত। সুইস আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলছে, বিশ্ববাজারে সাময়িকভাবে ১০০ ডলারে উঠতে পারে এক ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম। বাড়তে পারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও।