এমপি হয়েই নিজ দলের ২৬ নেতাকর্মী বিরুদ্ধে মামলা
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং স্থানীয় বিএনপি। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মহড়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে রামগতিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামগতি থানা-এ মামলা দুটি করা হয়। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


এ বিষয়ে এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—কোনো নেতাকর্মী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবে না। নির্বাচনের বিজয়কে পুঁজি করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালায়, তাদের দলে কোনো জায়গা নেই। অপরাধীর পরিচয় যাই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ভুক্তভোগীদের পক্ষে মামলা করার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন বলে জানান।


তিনি আরও বলেন, রামগতি-কমলনগরের সর্বস্তরের মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কেউ অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে দল থেকে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চর পোড়াগাছা, রামদয়াল বাজার এবং আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুর চর সুজনগ্রাম এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একদল নেতাকর্মী সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় চড়াও হয়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা মালিকদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।


অভিযোগ রয়েছে, চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ছিদ্দিক উল্লাহর একটি ইটভাটায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মালিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া রামদয়াল বাজারে ব্যবসায়ী মনিরের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।


একইদিন চর আলগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শক্তি প্রদর্শন ও মহড়া দেয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চর রমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী বেলাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহরিয়ার হান্নান, ইউপি সদস্য সুমন উদ্দিন, চর রমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিরাজ হোসেন, চর পোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।


লিটন দেওয়ান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), রামগতি থানা জানান, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে মিরাজ ও রিয়াজ নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।