বাজারে যখন অন্যান্য ফলের দাম আকাশছোঁয়া, তখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা সবচেয়ে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফলটি হলো কলা। সারা বছর পাওয়া যাওয়া এই ফলটি কেবল সাশ্রয়ীই নয়, বরং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে কলার অবস্থান তালিকার একদম ওপরের দিকে।
পুষ্টির পাওয়ারহাউজ কলা
কলা এমন একটি ফল যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং জটিল স্টার্চ। এটি প্রাকৃতিকভাবে চর্বি ও সোডিয়াম মুক্ত। কলায় থাকা ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি-৬ শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
কলার যত উপকারিতা
প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে মিলবে বেশ কিছু স্বাস্থ্যসুবিধা, যেমনঃ
দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি: কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শারীরিক পরিশ্রমের পর দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।
হজম ও পেট ফাঁপা রোধ: এতে থাকা ফাইবার ও পেকটিন অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেট ফাঁপা ভাব কমাতে সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়তা করে।
মন ভালো রাখার ওষুধ: এতে থাকা ভিটামিন বি-৬ শরীরে সেরোটোনিন ও ডোপামিন উৎপাদন বাড়ায়, যা বিষণ্নতা কাটিয়ে মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
দিনে কয়টি কলা খাওয়া উচিত?
পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে সাধারণত দুটি কলা খেতে পারেন। যারা নিয়মিত শারীরিক কসরত বা খেলাধুলা করেন, তাদের শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য এটি চমৎকার খাবার।
সতর্কতা
সবার জন্য কলার গ্রহনের পরিমাণ এক নয়। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যেমন:
ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য: কলায় প্রাকৃতিক চিনি থাকায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কলা খাওয়া উচিত।
কিডনি সমস্যার ক্ষেত্রে: কলায় উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে, যা কিডনি রোগীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই যাদের কিডনির কার্যকারিতায় সমস্যা আছে, তাদের কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে রাশ টানা প্রয়োজন।

