ইরান যুদ্ধে ছয় দিনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ছাড়িয়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার: ট্রাম্প প্রশাসন
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার (১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি সপ্তাহে কংগ্রেসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এ প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরেছেন।


সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটরদের জন্য আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়। তবে এটি যুদ্ধের মোট ব্যয় নয়; বরং সংঘাত শুরুর পর প্রাথমিক ছয় দিনের আনুমানিক খরচ।


হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, যুদ্ধের বাড়তি খরচ মেটাতে শিগগিরই কংগ্রেসের কাছে নতুন তহবিলের আবেদন জানানো হতে পারে। কিছু কর্মকর্তার মতে, এই আবেদনের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার (৫০ বিলিয়ন)। যদিও অনেকের ধারণা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রকৃত ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দুই দেশের বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যাদের অধিকাংশই ইরানি ও লেবানিজ নাগরিক। ইতোমধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননেও। এর প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থায় তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।


মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হামলার প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫৬০ কোটি ডলারের গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সদস্যরা।


এ পরিস্থিতিতে সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণে সম্প্রতি সাতটি বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।


অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তারা জানতে চেয়েছেন, সংঘাত কত দিন চলতে পারে এবং যুদ্ধ শেষ হলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল কী হবে।


কেন্টাকি সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।” তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।