ভালোবাসার গল্পে ঢালিউডের যে সিনেমাগুলো আজও অমলিন
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
ঢালিউডে প্রেমের গল্প মানেই গান, আবেগ, ত্যাগ আর স্মরণীয় সংলাপের এক অনন্য জগৎ। দশকের পর দশক ধরে অসংখ্য প্রেমের সিনেমা দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সেখান থেকে সেরা কয়েকটি বেছে নেওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন। তবু ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আলোচিত ও ব্যবসা সফল কিছু রোমান্টিক চলচ্চিত্র নিয়ে এই আয়োজন।

অবুঝ মন (১৯৭২)

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুক্তি পাওয়া কাজী জহির পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত। রাজ্জাক-শাবানা জুটির রসায়ন আর ‘শুধু গান গেয়েই পরিচয়’ গানের আবেদন ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দেয়। ভিন্ন ধর্মে বিভক্ত দুই তরুণ-তরুণীর প্রেমের টানাপোড়েন ছবিটিকে করে তোলে স্মরণীয়।

সুজন সখী (১৯৭৫)

গ্রামবাংলার সহজ-সরল প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত এ ছবিটি মুক্তির পর দীর্ঘদিন ব্যবসাসফলতার শীর্ষে ছিল। ফারুক-কবরী জুটির জনপ্রিয়তা, ‘সব সখীরে পার করিতে নিবো আনা আনা’ গানের আবেদন দর্শকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে। পরবর্তীতে সালমান শাহ ও শাবনূরকে নিয়ে নির্মিত রিমেকও ব্যাপক সাড়া পায়।

ঘুড্ডি (১৯৮০)

সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত এই ছবিটি প্রথা ভাঙা প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত। রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুবর্ণা মুস্তাফার অভিনয় এবং ‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে’ গানটি আজও দর্শকের মনে দোলা দেয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও ভূষিত হয় ছবিটি।

দেবদাস (১৯৮২)

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর উপন্যাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলামের নির্মাণ। বুলবুল আহমেদ, কবরী ও আনোয়ারার অভিনয়ে দেবদাস-পার্বতী-চন্দ্রমুখীর প্রেম ও বেদনার গল্প নতুনভাবে প্রাণ পায়। বাংলাদেশে নির্মিত সংস্করণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত।

ভেজা চোখ (১৯৮৮)

শিবলী সাদিক পরিচালিত এ ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পার রোমান্টিক জুটি দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। অসুস্থ প্রেমিককে ঘিরে প্রেমিকার মমতা ও আবেগের গল্প ছবিটিকে করে তোলে হৃদয়স্পর্শী।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩)

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত এই চলচ্চিত্র দিয়ে সালমান শাহ ও মৌসুমীর অভিষেক ঘটে। দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের মাঝে বেড়ে ওঠা প্রেম ও তার করুণ পরিণতি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

তোমাকে চাই (১৯৯৩)

মতিন রহমান পরিচালিত এ ছবিতে সালমান শাহ ও শাবনূরের জুটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি ছবিটিকে বিশেষ মর্যাদা দেয় এবং রোমান্টিক সিনেমার তালিকায় স্থায়ী আসন এনে দেয়।

প্রাণের চেয়ে প্রিয় (১৯৯৭)

রিয়াজ অভিনীত এই ছবি মুক্তির পর তুমুল ব্যবসাসফল হয়। ‘পড়ে না চোখের পলক’ ও ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’ গান দুটি ছবিটিকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে রিয়াজের প্রতিষ্ঠা পায় এই ছবির মাধ্যমে।

হঠাৎ বৃষ্টি (১৯৯৮)

বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত এ ছবিতে ফেরদৌস ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে। টিভিতে প্রচারের পর প্রেক্ষাগৃহেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রেমের আবেগমাখা গল্প ও গান ছবিটিকে কালজয়ী করে তোলে।

মনপুরা (২০০৯)

গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে সোনাই-পরীর প্রেমের করুণ পরিণতি দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলির অভিনয়, সংলাপ ও গান ছবিটিকে আধুনিক সময়ের অন্যতম সেরা রোমান্টিক চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক স্বীকৃতিও পায় ছবিটি।