নির্বাচন কমিশন তারুণ্যকে ভয় পায় বলেই বিএনপির অভিযোগের ভিত্তিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিএনসিসি ক্যাডেটদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)–এর ভিপি সাদিক কায়েম।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের 'শহীদ ওসমান হাদী চত্বরে' পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের উদ্যোগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় গণজমায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গণজমায়েতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, 'জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বিপন্ন করতে কালচারাল ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদের দোসররা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরা যখন জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি, তখন ডিপস্টেটের একটি অংশ, মিডিয়ার একটি অংশ, ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং দিল্লির তাবেদাররা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে'।
তিনি বলেন, 'যারা শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে, সেই জাতীয় পার্টি এখন ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে'। জিএম কাদের ও জাতীয় পার্টিকে গত ১৬ বছরের অপকর্মের জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবু সাদিক কায়েম আরও বলেন, 'একটি দল তাদের নেতা দেশে আসার পর ভারতের ভাষায় কথা বলছে। অনেক কষ্টে তারা একবার ‘হ্যাঁ’ বললেও এখন তাদের প্রচারণা থেকে ‘হ্যাঁ’ শব্দটাই উধাও। ব্যানারের কোথাও আর ‘হ্যাঁ’ খুঁজে পাওয়া যায় না'।
তিনি বলেন, 'এ দেশে রাজনীতি করতে হলে শহীদ আবু সাইদ ও শহীদ ওসমান হাদীকে ধারণ করতে হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, নতুন বাংলাদেশ, শহিদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা। আর ‘না’ মানে গোলামি'।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা শোনা যাচ্ছে। আপনারা শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্বে এসেছেন। সেই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। ২০১৮ ও ২০২৪–এর মতো অবৈধ নির্বাচন হলে আবার জুলাই ফিরে আসবে, আবু সাইদেরা রাস্তায় নামবে'।

