ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় দেশটির শেয়ারবাজারে দেখা গেছে নাটকীয় পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত চড়া শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দেওয়ার পরই গতকাল সোমবার বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায় ভারতের শেয়ারবাজারে। একইসঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থান করে নিয়েছে ভারতীয় মুদ্রা রুপি।
সোমবার(২রা ফেব্রুয়ারী) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এর এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভারতের ওপর আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রশাসন, যা খুব শিগগিরই কার্যকর হবে।
এই ঘোষণার পরপরই ভারতের প্রধান দুই শেয়ারবাজার সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটি-তে (Nifty) বড় ধরনের উত্থান ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, দ্য সেনসেক্স সারা দিনে অর্জন করেছে ৩,৬০০ পয়েন্ট। অন্যদিকে, নিফটি সূচক বেড়েছে ১,২০০ পয়েন্ট।
ট্রাম্পের এই ইতিবাচক বার্তার প্রভাব পড়েছে প্রায় প্রতিটি খাতেই। এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, গতকাল সোমবার রিয়েলে এস্টেট খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েছে গড়ে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, গাড়ি-মোটরবাইক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ম্যানুফেকচারিং খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং আইটি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
ডলারের বিপরীতে রুপির ঘুরে দাঁড়ানো শেয়ারবাজারের পাশাপাশি মুদ্রাবাজারেও ফিরেছে স্বস্তি। গতকাল ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ১.২ শতাংশ শক্তি অর্জন করেছে। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মান দাঁড়িয়েছে ৯০.৪০-এ।
শুল্ক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। তবে ক্ষমতায় আসার পর ২ এপ্রিল ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করেন, যার ফলে ভারতের ওপর শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় গত বছরের আগস্টে। রাশিয়া থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে ভারতের জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এতে মোট শুল্কের পরিমাণ পৌঁছায় ৫০ শতাংশে।
বিকল্প বাজার ও বর্তমান পরিস্থিতি ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়লে ভারত বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসের শেষ দিকে ইউরোপের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে ভারত। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ সুর নরম করে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

