ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে সংঘাত: তিন মাসের মাথায় আবারও ‘শাটডাউন’ যুক্তরাষ্ট্রে
ছবিঃ সংগৃহীত

বরাদ্দ বিল পাস নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের রশি টানাটানির জেরে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ‘শাটডাউন’ বা অচলাবস্থার কবলে পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার রাত ১২টার ডেডলাইন পার হলেও পার্লামেন্টে বাজেট সংক্রান্ত বিল পাস না হওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের রীতি অনুযায়ী, যেকোনো আর্থিক বরাদ্দ বিল কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ (সিনেট) ও নিম্নকক্ষ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)—উভয় পক্ষে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয়। এএফপির খবর অনুযায়ী, বিলটি সিনেটে পাস হলেও ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এখনো পৌঁছাতে পারেনি। একইসাথে নির্ধারিত সময়সীমা (শনিবার মধ্যরাত) পার হয়ে যাওয়ায় সরকারি খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দ আটকে গেছে।


২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান শুরু করেছেন। এই উত্তাপ আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়। মিনোসেটা অঙ্গরাজ্যে অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অ্যালেক্স প্রিটি নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছে। সেইসাথে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) বাজেট বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন, তার ঘোর বিরোধিতা করছে ডেমোক্র্যাটরা।


সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত বাজেট প্রস্তাব প্রত্যাহার না করেন, তবে নিম্নকক্ষে এই বিল পাস হতে দেবে না ডেমোক্রেটিক পার্টি। ডেমোক্র্যাটদের এই অনড় অবস্থানের কারণে শাটডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


মার্কিন পরিভাষায়, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুত বরাদ্দ যখন আইনি জটিলতায় আটকে যায় এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে, তাকেই শাটডাউন বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১৮ বার এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত বছর অক্টোবরেও একবার শাটডাউনের কবলে পড়েছিল দেশটি।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। সমঝোতা হলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে বিলটি পাসের মাধ্যমে দেশ শাটডাউন মুক্ত হতে পারে।