পরকীয়া ও মদ্যপান: ফলাফল, ১৪০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান তরুণী
ছবিঃ সংগৃহীত

মদ্যপান এবং বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে এক তরুণ-তরুণীকে জনসমক্ষে ১৪০টি করে বেত্রাঘাত করেছে স্থানীয় নীতি পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। নির্মম এই সাজা চলাকালীন যন্ত্রণায় ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহ-র একটি পার্কে শত শত মানুষের সামনে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অপরাধের অভিযোগ ছিল.। তাদের প্রথম অপরাধ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, যার জন্য সেই দেশের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ১০০টি বেত্রাঘাত। দ্বিতীয়ত মদ্যপান, যার জন্য নির্ধারিত ৪০টি বেত্রাঘাত।


মোট ১৪০টি বেত্রাঘাতের এই সাজা আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন প্রবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত একক কোনো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।


বিবিসি ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তিনজন নারী পুলিশ সদস্য পর্যায়ক্রমে ওই তরুণীকে বেত্রাঘাত করছিলেন। প্রথম দিকে তরুণী ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদলেও, আঘাতের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মঞ্চেই লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এর ৩৮টি প্রদেশের মধ্যে একমাত্র আচেহ প্রদেশেই কট্টর শরিয়া আইন প্রচলিত। ২০০১ সালে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন পাওয়ার পর থেকে সেখানে এই ব্যবস্থা চালু হয়। আইন অনুযায়ী মদ্যপান, জুয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং সমকামিতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ যার জন্য এখানে নিয়মিত প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়। এছাড়া শরিয়া আইন লঙ্ঘনকারীদের ধরতে সেখানে পৃথক 'উলাইয়াতুল হিসবাহ' বা নীতি পুলিশ কাজ করে।


এই ঘটনার পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই ধরণের জনসমক্ষে বেত্রাঘাতকে "নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অবমাননাকর" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে আচেহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধ দমনে এবং সমাজে নৈতিকতা বজায় রাখতে এই শাস্তির প্রয়োজন রয়েছে।