যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহস দেখায়, তবে তার পাল্টা জবাব আর আগের মতো ‘সীমাবদ্ধ’ থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
আকরামিনিয়া স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো উসকানি বা হামলার বিপরীতে ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের পাল্টা হামলা শুরু হবে। যা হবে অত্যন্ত দৃঢ়সংকল্পমূলক এবং চূড়ান্ত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এবারের সংঘাত শুরু হলে তা আর অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হবে না, বরং ইরান দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলকে বিদ্রূপ করে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “ট্রাম্প যদি মনে করেন তিনি আকস্মিক হামলা চালিয়ে দুই ঘণ্টা পর টুইট করবেন যে ‘অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে’, তবে তিনি ভুল স্বর্গে বাস করছেন। এবার আর পরিস্থিতি তেমন হবে না।” ইরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তারা এবার মাঠ ছাড়বে না।
গত বছরের (২০২৫) জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে আকরামিনিয়া বলেন, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল সীমিত এবং ইরানও কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে মিসাইল ছুড়ে সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে উত্তেজনা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এবার আর কোনো ‘সীমিত’ পাল্টা হামলার সুযোগ নেই।
ইরানি জেনারেল দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধজাহাজ ও রণতরী ইরানের অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেমের কাছে অত্যন্ত ‘দুর্বল’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি সামরিক অবকাঠামো এবং ঘাঁটি বর্তমানে ইরানের মধ্যম পাল্লার মিসাইলের আওতার মধ্যে রয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশের পরপরই ইরানের এই কঠোর অবস্থান অঞ্চলটিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

