২০২৬ সালে শবে বরাত, রমজান, শবে কদর ও ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধানগুলো পালিত হবে বছরের প্রথম ভাগেই। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ইবাদতের পাশাপাশি হালাল উপার্জন ও উৎসব পালনের এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। পবিত্র কোরআনের সূরা জুমআ’য় ইরশাদ হয়েছে, “নামাজ শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর।”
২০২৬ সালের ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোর সম্ভাব্য সূচি: আরবি মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছরই এসব দিনের তারিখ নির্ধারিত হয়। তবে ক্যালেন্ডারের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো হলো:
শব-ই-মেরাজ: ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার দিবাগত রাত)।
শব-ই-বরাত: ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার দিবাগত রাত)।
পবিত্র রমজান শুরু: ১৮ ফেব্রুয়ারি (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)।
জুমাতুল বিদা: ১৩ মার্চ (শুক্রবার)।
শব-ই-কদর: ১৭ মার্চ (রোববার দিবাগত রাত)।
ঈদুল ফিতর: ১৯ বা ২০ মার্চ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)।
ঈদুল আজহা: ২৬ মে (মঙ্গলবার)।
পবিত্র হজ: ১৪ মে থেকে শুরু হতে পারে।
আশুরা: ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার)।
ঈদে মিলাদুন্নবী: ২৬ আগস্ট (মঙ্গলবার)।
(দ্রষ্টব্য: প্রতিটি তারিখই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিবর্তন হতে পারে।)
ইসলামে ইবাদত ও উৎসবের দর্শন: ইসলাম কেবল ইবাদত নয়, বরং পরিমিত আনন্দ উদযাপনেরও শিক্ষা দেয়। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করে মদিনাবাসীদের জাহেলিয়াতের উৎসবের পরিবর্তে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—এই দুটি পবিত্র ও আনন্দময় উৎসব পালনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পরকালের প্রস্তুতির জন্য শবে কদর, শবে বরাত ও আশুরার মতো দিনগুলোতে নফল ইবাদতের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে।
সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের জন্য এসব ধর্মীয় বিধান পালন করা যেমন আবশ্যক, তেমনি জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে কাজ করাও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

