ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে একটি বড় যুদ্ধজাহাজের বহর বা ‘আর্মাদা’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। যেখানে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “আমরা একটি আর্মাদা ইরানের উদ্দেশে পাঠিয়েছি। যদি প্রয়োজন পড়ে, মানে আমি বলছি না যে কোনো কিছু ঘটতে যাচ্ছে, তবে আমরা তাদের (ইরান) নিবিড় নজরদারির মধ্যে রাখছি।”
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, এই বহরে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এগুলো ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নেবে।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে এই বহরে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বহরটিতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক মজুত রয়েছে।
চলতি জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই বহরটি যাত্রা শুরু করে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত বছর জুন মাসেও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। যদিও সরাসরি অভিযান হয়নি, তবে এই বিশাল যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

