গত ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) জাতীয় ছাত্রশক্তি তাদের অফিশিয়াল পেইজ থেকে যশোর জেলা কমিটি প্রকাশ করে। এরপরই যশোর জেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা আজ চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।
যবিপ্রবি শিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম ছাত্র রাজনীতিতে একটি নতুন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ধারা তৈরি হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি ছাত্রশক্তির ব্যানারে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন চলছে। তাদের যশোর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক চৌধুরী সাদমান তাসিন একজন চিহ্নিত ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। ২৪ এর জুলাইয়ের পর লবিং করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর পদ বাগিয়ে টাকার বিনিময়ে জেলা ছাত্রলীগ নেতা ফাহমিদ বিজয় এর মত অনেককে সেইফ এক্সিট দিয়েছেন। ২০২৪ এর ৪ আগস্টে ছাত্রলীগের সাথে মিছিল করা গ্যাংস্টারদের সঙ্গ এখোনো ছাড়েননি তিনি। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা এবং আন্দোলনের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
উসামা নামে আরেকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “যশোর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক অমিত যে ছাত্রলীগের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। নিজ বিভাগের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ‘সিলিন্ডার সাগর’-কে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দিলে, অমিত অর্থের বিনিময়ে তাকে গোপনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এই ব্যক্তি কোনোভাবেই ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হতে পারে না।”
কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন,“যশোর ছাত্রশক্তির কমিটির সদস্য সচিব একজন প্রকাশ্য ছাত্রলীগ কর্মী, যিনি কোনো আন্দোলনে অংশ নেননি এবং হাজী সুমনের ডানহাত হিসেবে পরিচিত। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—কেন্দ্রীয় কমিটিকে প্রকাশ্যে অবমাননা ও গালিগালাজ করার পরও কীভাবে তিনি কমিটিতে বহাল আছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই।”
যশোরের রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে যশোর ছাত্রশক্তির বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের অপসারণ, কমিটি স্থগিত করে পুনর্গঠন, এবং এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের জোর দাবি জানান। তারা স্পষ্ট করে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো অপশক্তিকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

