জাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: ছাত্রশক্তির হুঁশিয়ারি
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুমোদিত নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা উপেক্ষা করে ২০১৬ সালের পুরোনো ও বিতর্কিত নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ জাবি শাখা। একইসাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।


সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও উদ্বেগ তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।


নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসচ্ছতার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, একাডেমিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ১১ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভায় একটি আধুনিক ও মাল্টি-স্টেজ মূল্যায়নভিত্তিক নিয়োগ নীতিমালা অনুমোদিত হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আগামী ২৯ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য শিক্ষক নিয়োগের ভাইবা বোর্ডগুলো পুরনো ও বৈষম্যমূলক ২০১৬ সালের নীতিমালার ভিত্তিতে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।


জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “পুরাতন নীতিমালায় ডেমো ক্লাস ও কাঠামাবদ্ধ ভাইভার বাধ্যবাধকতা ছিল না, যা প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে বড় বাধা। প্রশাসন জালিয়াতির মাধ্যমে দলীয় শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা করলে তাদের গদি থাকবে না। নতুন নীতিমালার বাইরে কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া চললে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”


অটোমেশন বাস্তবায়নে ব্যর্থতা

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোমেশন প্রক্রিয়ার স্থবিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা। তিনি অভিযোগ করেন, “২০ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালু হবে। কিন্তু জানুয়ারির শেষ দিকে এসেও লাইব্রেরি ছাড়া কোথাও ডিজিটাল ব্যবস্থার ছোঁয়া নেই। শিক্ষার্থীদের এখনও ফর্ম-ফিলাপের জন্য এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন অফিসে দৌড়াতে হচ্ছে।”


চার দফা দাবি

শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি পেশ করা হয়:

১. শিক্ষক নিয়োগে শুধুমাত্র কার্যকর নতুন ও আধুনিক নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। 

২. পুরোনো নীতিমালার আওতায় চলমান সকল প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করতে হবে। 

৩. প্রশাসনিক কার্যক্রমে দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশন বাস্তবায়ন করতে হবে। 

৪. নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ডিজিটাল রেকর্ড ও ট্র্যাকিং সিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে।


দাবি অনতিবিলম্বে মেনে নেওয়া না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।