অর্থাভাবে অনিশ্চিত মেয়েদের হকি, প্রস্তুতি শুরু নিয়েও সংশয়
ছবিঃ সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হকিতে বইছে সাফল্যের হাওয়া। আমিরুল ইসলাম ও রাকিবুলদের হাত ধরে যেমন অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে এসেছে নজরকাড়া পারফরম্যান্স, তেমনি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এশিয়ান কাপে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরাও। এই সাফল্যের রেশ ধরে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে নারী ও পুরুষ উভয় দলকেই পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তবে শেষ মুহূর্তে এসে হানা দিয়েছে চরম আর্থিক সংকট।


মার্চ-এপ্রিলে ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের জন্য গত রোববার ৩৭ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে ফেডারেশন। পুরুষ দলের প্রস্তুতি ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নারী দলের ভাগ্যে ঝুলে আছে অনিশ্চয়তা। ২০-৩০ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় মেয়েদের বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না হওয়ায় মেয়েদের আবাসিক ক্যাম্প বা প্রস্তুতি শুরু করতে পারছে না হকি ফেডারেশন।


বাছাইপর্বে নাম নিবন্ধনের শেষ সময় গত রোববার পার হয়ে গেলেও এখনো মেয়েদের নাম নথিভুক্ত করেনি ফেডারেশন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মেয়েদের এন্ট্রি এখনো আমরা করিনি। কারণ, একটু হিসাবনিকাশের বিষয় আছে। সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব মেয়েদের দল পাঠাব কি পাঠাব না।”


দেরিতে এন্ট্রি করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে আছে এবং এতে খুব একটা সমস্যা হবে না বলে তিনি মনে করেন।


সাধারণত এশিয়ান গেমসে কোন কোন ডিসিপ্লিন অংশ নেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। দলীয় ইভেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে বিওএ সব সময়ই বেশ কড়াকড়ি ও হিসাবনিকাশ করে থাকে। তবে সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান স্পষ্ট করেছেন যে, বাছাইপর্বে মেয়েদের পাঠানো বা না পাঠানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিওএ-র কোনো সম্পর্ক নেই; এটি সম্পূর্ণ ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়।