যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংলাপের প্রস্তাব ও হুমকির মুখে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সেনা কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় তাদের বাহিনীর ‘আঙুল এখন ট্রিগারে’ রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এই কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলকে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ ও ‘মর্মান্তিক’ পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেন।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার ফলে তাদের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থমকে গেছে। ট্রাম্প বলেন, “ইরান এখন সংলাপে বসতে চাইছে এবং আমরাও বসব। তবে তাদের কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেনারেল পাকপৌর এই কড়া জবাব দেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংলাপের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে।
জেনারেল পাকপৌর তার বিবৃতিতে গত বছর (২০২৫) জুন মাসে হওয়া ১২ দিনের ভয়াবহ সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, “আইআরজিসি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আঙুল এখন বন্দুকের ট্রিগারে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ইরান এখন বেশি প্রস্তুত। আমাদের সর্বোচ্চ নেতা ও কমান্ডারের আদেশ পালনে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।”
এদিকে দাভোস থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইরানকে নজরে রাখতে দেশটির সমুদ্র উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর (আর্মাডা) পাঠানো হয়েছে। গত বছর জুনের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী নিহতের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক চরম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নতুন করে এই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

