পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে এসেও সেখানে মিলছে লাশের স্তূপ। আজ বৃহস্পতিবার এক বদ্ধ দোকান থেকেই ৩০টি মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
করাচি দক্ষিণ ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-কে জানিয়েছেন, মার্কেটের ম্যাজানাইন ফ্লোরের ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত শনিবার আগুনের সূত্রপাত হলে পুরো শপিং সেন্টারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হওয়া থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ ওই দোকানটির ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দোকানের সাটার আটকে যাওয়ায় এবং আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও পুড়ে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৮০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর অবস্থা এতটাই বিকৃত যে খালি চোখে চেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০টি পরিবার তাদের ডিএনএ নমুনা জমা দিয়েছে।
সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার নির্দেশ, পোড়া মার্কেট থেকে সব মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ বন্ধ রাখতে হবে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।
শনিবার লাগা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধারকাজ এখনো চলমান। দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভবনের ভেতর বিষাক্ত ধোঁয়া এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

