১৯৭০-এর দশকের দক্ষিণ কোরিয়ার এক অন্ধকার ও বিশৃঙ্খল অধ্যায়কে পর্দায় তুলে এনে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ডিজনি প্লাসের নতুন অরিজিনাল সিরিজ ‘মেড ইন কোরিয়া’। খ্যাতিমান পরিচালক উ মিন-হো এই সময়টিকে অভিহিত করেছেন ‘বর্বতার যুগ’ হিসেবে। গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া ছয় পর্বের এই ড্রামা সিরিজটি গত সপ্তাহে তার প্রথম মৌসুম শেষ করেছে, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
বিপরীত মেরুর দুই চরিত্রের সংঘাত
সিরিজটির মূল আকর্ষণ দুই শক্তিশালী চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক ও ক্ষমতার লড়াই। একদিকে আছেন জনপ্রিয় তারকা হিউন বিন, যিনি ‘বেক কি-তাই’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অর্থ ও ক্ষমতার লোভে অন্ধ এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ, যে লক্ষ্য অর্জনে যে কোনো হীন পথ বেছে নিতে পারে। অন্যদিকে আদর্শবাদী ও একগুঁয়ে কৌঁসুলি ‘জাং গন-ইয়ং’ চরিত্রে দেখা গেছে জং উ-সুং-কে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলে বেক কি-তাইকে আইনের আওতায় আনাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ও ক্ষমতার দানব
পরিচালক উ মিন-হো এই সিরিজের মাধ্যমে ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ ও মানুষের নৈতিক অবক্ষয়কে ব্যবচ্ছেদ করেছেন। দ্য কোরিয়া টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর মানুষ কেন দ্রুত বদলে যায়, সেই প্রশ্নটিই আমি তুলতে চেয়েছি। আমি দেখাতে চেয়েছি ইতিহাস কীভাবে বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে।”
তিনি আরও জানান, ১৯৭০-এর দশকের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, মাদক পাচার এবং সামাজিক অস্থিরতা—সবই এই গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর মতে, ওই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতাই অনেক ‘দানব’ তৈরি করেছিল, যা সিরিজের নাম ‘মেড ইন কোরিয়া’-র মাধ্যমে প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সিরিজ ফরম্যাটে নতুন অভিজ্ঞতা
‘ইনসাইড মেন’ বা ‘দ্য ম্যান স্ট্যান্ডিং নেক্সট’-এর মতো সফল চলচ্চিত্রের নির্মাতা উ মিন-হোর জন্য এটিই প্রথম ওয়েব সিরিজ। বড় পর্দার বদলে ছোট পর্দার জন্য কাজ করার কারণ হিসেবে তিনি গল্পের ব্যাপ্তিকে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দুই ঘণ্টার সিনেমায় এই বিশাল ক্যানভাস ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব ছিল।

