বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় সরকারব্যবস্থায়ও কার্যকরভাবে চর্চা করতে হবে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটে ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তরুণদের কথা শোনার পাশাপাশি নিজের দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অনুশীলন কার্যকরভাবে চালু। বাংলাদেশেও রোগী সংখ্যা তুলনায় সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সংখ্যা কম হওয়ায় অর্থনৈতিক অক্ষমতার কারণে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল করা বাস্তবসম্মত নয়। উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশেও এই বাস্তবতা বিবেচনা করে পরিকল্পনা করতে হবে। তিনি কমিউনিটি পর্যায়ে হেলথ কেয়ার ওয়ার্কারদের মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সাধারণ রোগে প্রাথমিক সেবা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন।
বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক প্রেরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে যায়, যার বড় অংশই অদক্ষ। এর ফলে তারা দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে পারে না। তিনি জানান, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করা হবে এবং ভাষা শিক্ষা যুক্ত করা হবে, যাতে তরুণরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।
নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের কারণে আজ নারীর শিক্ষায় বড়ো অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, বিএনপি সরকারের পরিকল্পনায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, নাগরিকের কথা বলার অধিকার থাকলেই শহরের ময়লা ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মতো সমস্যা সমাধান সম্ভব। তিনি জানান, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ৮০ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি নার্সারির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চারা বিতরণ করা হবে।
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ নিয়ে তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারিভাবে কৃষককে প্রতীকী নয়, বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা প্রদান করতে হবে।

