গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ এ যোগ দিচ্ছে পাকিস্তান
ছবিঃ সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পাকিস্তান গাজা বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসলামাবাদ আশা করছে, এই বোর্ড গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।”


সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-কে কেন্দ্র করে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মোড় নিয়েছে। সম্মেলনে পাকিস্তানের সরকারপ্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।


এরই মধ্যে গতকাল দাভোস সম্মেলনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের তিনজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের লক্ষ্যেই ফিল্ড মার্শাল মুনির দাভোসে পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি রওনা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।


এ বিষয়ে রয়টার্স পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তরের (আইএসপিআর) সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এই বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


গাজায় হামাস-ইসরায়েল সংঘাত স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হামাস এবং ইসরায়েল উভয়েই সম্মতি জানানোর পর ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে সেই শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর হয়।


ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো:

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হবে।

এই সরকার পরিচালিত হবে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এর নির্দেশনা অনুযায়ী।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এই বোর্ডের সদস্যপদ পাবে।

বোর্ডটি টেকনোক্র্যাট সরকারকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠনে তহবিল সংগ্রহ এবং ব্যয়ের বিষয়টি তদারকি করবে।



গত ১৭ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানকে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই পাকিস্তান এই আন্তর্জাতিক পরিষদে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করল।