দীর্ঘ ১০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বলিউডে প্রত্যাবর্তন করলেন অভিনেতা ইমরান খান। ২০১৫ সালে ‘কাট্টি বাট্টি’ সিনেমার পর অভিনয় জগত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) খতরনাক জাসুস’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তার নতুন যাত্রা শুরু হলো। যদিও এই ছবিতে তিনি একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তবুও প্রিয় অভিনেতাকে ফিরে পেয়ে ভক্তদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
ইমরানের প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার বলিউড ছাড়ার সেই পুরোনো প্রসঙ্গ। এক সময় ফিল্ম কম্প্যানিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন, ইন্ডাস্ট্রির অতিমাত্রায় বাণিজ্যিক মানসিকতা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছিল। তার মতে, সেখানে সৃজনশীলতার চেয়ে পারিশ্রমিক, বক্স অফিস কালেকশন এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু দিয়ে একজন অভিনেতার সাফল্য বিচার করা হতো।
ইমরান অকপটে স্বীকার করেন, শুরুতে বিষয়গুলো তাকে প্রভাবিত না করলেও এক সময় তিনিও সংখ্যার নেশায় বুঁদ হয়ে পড়েছিলেন। সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা চরিত্রের চেয়েও বক্স অফিসের হিসাবকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে বুঝতে পারেন, অভিনয় থেকে তিনি আর কোনো মানসিক তৃপ্তি পাচ্ছেন না। ‘কাট্টি বাট্টি’ সিনেমার ব্যর্থতা সেই উপলব্ধিটিকে আরও জোরালো করে এবং তিনি অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি ‘সামদিশ’-এর একটি অনুষ্ঠানে ইমরান জানান, অর্থ কখনোই তার প্রধান লক্ষ্য ছিল না। নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি এক সিনেমায় ১২ কোটি টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাকে তীব্র বেতন বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে তার নতুন ছবি ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’। এই ছবিতে বীর দাসের পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন মিথিলা পালকার ও শারিব হাশমি। বিশেষ চমক হিসেবে ছবিতে একটি ক্যামিও চরিত্রে রয়েছেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান।
সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান ভক্তরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতির পর এই নতুন পথচলা ইমরানের ক্যারিয়ারে কোনো বড় মোড় ঘটাতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

