ফরিদপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠেছে হালির পেঁয়াজ। উৎপাদন খরচ কম, ফলন বেশি এবং বাজারে চাহিদা থাকায় এই পেঁয়াজ চাষ করে স্বপ্ন দেখছেন জেলার শত শত কৃষক। বিশেষ করে সদরপুর, সালথা, নগরকান্দা ও বোয়ালমারী উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজ হালির পেঁয়াজের সমারোহ।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশীয় পেঁয়াজের তুলনায় হালির পেঁয়াজ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম হয়। এতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষকদের হিসাবে, এক বিঘা জমিতে হালির পেঁয়াজ চাষ করে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামের কৃষক ভুলু ফকির বলেন, “আগে দেশি পেঁয়াজ চাষ করে অনেক সময় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। এবার হালির পেঁয়াজে খরচ কমেছে, ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে দাম ঠিক থাকলে সংসারের অবস্থার উন্নতি হবে।”
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে হালির পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। উৎপাদন বাড়ায় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু হালির পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক চাষ পদ্ধতি, উন্নতমানের বীজ এবং নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ভালো উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর নিয়ে কিছু কৃষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দাম কমে গেলে কাঙ্ক্ষিত লাভ নাও পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য বাজার তদারকি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সবকিছু মিলিয়ে ফরিদপুরের কৃষিতে হালির পেঁয়াজ হয়ে উঠেছে আশার প্রতীক। পরিকল্পিত উৎপাদন ও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে, এই পেঁয়াজ চাষ কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

