৩৬ জুলাই সাহিত্য প্রতিযোগিতায় ডিপিআই সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ছামিরের প্রথম স্থান অর্জন
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

কলমের শক্তিতে যখন ইতিহাস কথা বলে, তখন তা কেবল গল্প থাকে না। রূপ নেয় প্রতিরোধের ভাষায়। ঠিক তেমনই ছাত্র-জনতার জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলা সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র  কর্তৃক আয়োজিত “৩৬ জুলাই সাহিত্য পুরস্কার–২০২৫”–এ গল্প বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে সম্মাননা পেয়েছেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আরমান খান ছামির।


আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় তিনি “জুলাইয়ের যোদ্ধা” শিরোনামে একটি গল্প উপস্থাপন করেন, যা বিচারকমণ্ডলীর সর্বোচ্চ মূল্যায়ন লাভ করে প্রথম স্থান অর্জন করে।


এ বিষয়ে আরমান খান ছামির বলেন, “‘জুলাইয়ের যোদ্ধা’ গল্পটির প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে সমসাময়িক বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোটা বিরোধী আন্দোলন ও তরুণদের ন্যায়বিচারের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাঈম একজন স্বপ্নবাজ তরুণ, যার ব্যক্তিগত স্বপ্ন অলিম্পিকে দৌড়ে দেশের জন্য স্বর্ণপদক আনা। কিন্তু দেশের অন্যায় ও বঞ্চনা তার ব্যক্তিগত স্বপ্নকে জাতীয় স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়।”


তিনি আরও জানান, গল্পটির মূলভাব হলো ত্যাগ, দেশপ্রেম ও অদম্য মানসিক শক্তি। আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি পা হারালেও নাঈম তার স্বপ্ন পূরণে অনড় থাকে এটাই গল্পের মূল বার্তা। শারীরিক ক্ষতির মধ্যেও আদর্শ ও স্বপ্নের বিজয়কে তিনি তুলে ধরতে চেয়েছেন।


সাহিত্যচর্চায় আরমান খান ছামির নতুন নন। শৈশব থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ লেখকের কলমে উঠে আসে সমাজের বৈষম্য, তরুণদের স্বপ্ন, মানবিকতা, ইসলামিক মূল্যবোধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তার লেখা দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, ম্যাগাজিন, মাসিক-সাপ্তাহিক পত্রিকা ও যৌথ কাব্যগ্রন্থে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে।


উল্লেখযোগ্যভাবে, তার প্রথম প্রকাশিত বই “অতঃপর হাসনাহেনা হেসেছিল” ২০২৫ সালের একুশে বইমেলায় পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়। এর আগে তিনি কিশোর পাতা জাতীয় গল্প প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান, বসিরহাট লিটল ম্যাগাজিন রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ভারত) আয়োজিত সাহিত্য প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অর্জনসহ কবি নজরুল সাহিত্য পদক ও বেগম রোকেয়া সাহিত্য পদক লাভ করেছেন।


প্রতিযোগিতা সম্পর্কে নিজের অনুভূতি জানিয়ে আরমান খান ছামির বলেন, “এ ধরনের সাহিত্য প্রতিযোগিতা আরও বেশি করে আয়োজন করা প্রয়োজন। কারণ এসব উদ্যোগ আমাদের জুলাইয়ের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও গণমানুষের সংগ্রামকে ধারণ করতে সহায়তা করে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সেই চেতনা ছড়িয়ে দেয়। সাহিত্য মানুষের অনুভূতি ও বিবেককে নাড়া দেয়; তাই জুলাইয়ের আন্দোলন, তার মূল্যবোধ ও শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দিতে সাহিত্যচর্চার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন তরুণদের দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”