ক্রীড়াঙ্গনে ইবি শিক্ষার্থীদের সাফল্য
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণ সফলতা দেখিয়ে আসছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, বাস্কেটবল, অ্যাথলেটিকস, লং জাম্পসহ বিভিন্ন গেমসে তারা নিয়মিতভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।


ক্রিকেটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান,  ক্রিকেটে ইবির শিক্ষার্থীদের কথা বললে শুরুতেই বলতে হয় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে নিয়মিত খেলোয়াড় ফাহিমা খাতুনের কথা। তিনি গত ১৩ বছর নিয়মিত বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলে খেলছেন। ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ,২০২৩ সালের এশিয়া গেমস, আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপসহ দেশে অনুষ্ঠিত নানা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আদনান ইসলাম সাহেব ২০১৩ সালে অনুর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। একই বিভাগের ছাত্রী তামান্না শারমিন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ করে। ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র জয়ন্ত দাশ ২০১১ সালে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে তিনি ২০০৮ সালে অনুর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। আইন ও মুসলিম বিভাগের ছাত্র আশিকুল আলম ২০১১ সালের বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। একই বিভাগের ছাত্র আশিকুল আলম ২০০৮ সালে অনুর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ক্রিকেট দল এবং ২০০৯ সালে অনুর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। 


ফুটবলে ইবি শিক্ষার্থীদের অবদান: ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, বাংলাদেশ জাতীয় যুব ফুটবল দলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অরুপকুমার বৈদ্য, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বয়স ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় আদনান চৌধুরী, রোহিত সরকার, সাদ্দাম হোসেন বিল্লাল মিয়া, জুলফিকার হায়দার, ফয়সাল হাসান মারুফ, কবিরুল ইসলাম ও রাতুল ইসলাম বাংলাদেশ দলে প্রতিনিধিত্ব করেন।


অলিম্পিক গেমসে ইবি শিক্ষার্থীদের সাফল্য, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, রাষ্ট্রনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র মোঃ শামসুদ্দীন ২০০৪ সালে গ্রিসে অনুষ্ঠিত ২৮তম অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।


ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে ইবি শিক্ষার্থীদের অবদান, রাষ্ট্রনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র মোঃ আসাদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র মোঃ আব্দুল্লাহিল কাফি, খন্দকার সোহেল রানা একই বিভাগের ছাত্রী ইসরাত জাহান, তামান্না আক্তার, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ হোসেন ও তাসলিমা আক্তার মনি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও আব্দুল্লাহিল কাফি দ্রুততম মানব, ইসরাত জাহান বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী, ফিরোজ হোসেন ও তাসলিমা আক্তার মনি একাধিক ইভেন্টে জাতীয় স্বর্ণপদক,তামান্না আক্তার ১০০ মিটার হাডেলসে ৭বার জাতীয় স্বণপদক, ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশীপের সেরা খেলোয়াড়, বিশ্ব হকি চ্যাম্পিয়ন-শীপ ২০১৭ বাংলাদেশ দলের পক্ষে অংশগ্রহন করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। 

ভলিবল প্রতিযোগিতায় ইবি শিক্ষার্থীদের সাফল্য, আইন বিভাগের ছাত্র ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ভলিবল প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। 
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র সোহেল রানা লিংকন ও রেদওয়ান আহমেদ ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ভলিবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন।


বাস্কেটবলে ইবি শিক্ষার্থীদের সাফল্য, সাকিব হোসেন অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২৩ বাংলাদেশ জাতীয় বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড় হয়ে ভুটান, চীন ও শ্রীলংকাতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। টুটুল বিশ্বাস নেপালে অনুষ্ঠিত সাবা অনূর্ধ্ব-১৮ ও ভারতে অনুষ্ঠিত রয় জয়সিং বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট এবং ইন্দোনে শিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের পক্ষে অংশ নেন।


লং জাম্পে ইবি শিক্ষার্থীদের সাফল্য,  ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী পাপিয়া রানী সরকার, লং জাম্পে জাতীয় স্বর্ণপদকসহ ২০১০ সালে লন্ডন অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে ও তুরস্কে ওয়ার্ল্ড ইনডোর গেমসে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করে। একই বিভাগের শিক্ষার্থী আতিউল হাসান শিকদার লং জাম্পে জাতীয় স্বর্ণপদকসহ সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান যুব গেমস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।


ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী  জাফনির বিভিন্ন সময়ে শটফুট ও ডিসকাসে জাতীয় রেকর্ড সহ তেরোটি স্বর্ণপদ লাভ করেন। ইসলামের ইতিহাস সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী পারভীন ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বাংলাদেশের দ্রুতমানবীসহ সাউথ এশিয়ান গেমস, ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশ দলে হয়ে অংশ নেন। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী পল্লবী হক জাতীয় প্রতিযোগিতায় হাই জাম্পে ৯টি স্বর্ণ পদকসহ ভারতে অনুষ্ঠিতসাউথ এশিয়ান গেমে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান রয়েল ২০২৩ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন। আইন ও মুসলিম বিভাগের ছাত্র আশিক কুমার হালদার চীনে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান ইয়ুথ গেমসে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি করে।


জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার: আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দেশের পক্ষে বিশেষ অবদান রাখায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এপর্যন্ত ৪জন ক্রীড়াবিদ খেলাধুলায় সর্বোচ্চ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন। এরা হলেন,   রাষ্ট্রনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র কাজল দত্ত, একই বিভাগের ছাত্রী শাহরিয়া সুলতানা সুচি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী লাভলী সুলতানা ও অর্থনীতি বিভাগের সশয়ের। অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী দেশের অন্যতম নারী ভারোত্তোলক মোল্লা সাবিরা সুলতানা পান শেখ কামাল পুরস্কার। 


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক ও শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের খেলোয়াড়দের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তোলার যে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তা সত্যি প্রসংশনীয়। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ করে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে প্রতিনিয়ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা বিভিন্ন ক্রীড়া আসর হতে পদক জয়ের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বিত করে চলেছে তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমং প্রত্যোশা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী সর্বপরি খেলোয়াড়সহ সকলের।