বিপ্লবী বার্তা
রাজাপুরে ১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

রাজাপুরে ১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। অথচ এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১৩ জন শিক্ষক। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া ক্লার্ক, পিয়নসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন আরও পাঁচজন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে মোট জনবল ১৮ জন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। কাগজ-কলমে বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।সম্প্রতি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলছে। ছাত্রীদের অধিকাংশই বিদ্যালয়ে নেই। আর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বসে গল্প করতে দেখা যায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশও চোখে পড়েনি।স্থানীয়দের দাবি, একসময় বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিক্ষক সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি। নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়া, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তারা।গত বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টি থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজন পাস করেছিল। আর এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১২ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয়রা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে দিতে চান না। শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় পড়ালেখার মান খারাপ হয়েছে এবং ফলাফলও খারাপ হয়েছে।”ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলা করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা চলায় শিক্ষার্থীরা মাঠে রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের কেন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখব কী কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে। বর্তমানে ঢাকায় আছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান—সবকিছু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনবে।

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

এক সময় সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার শিকার ছিল অনেকের কাছে সাহসিকতার প্রতীক। সংঘবদ্ধ শিকারিরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে বনে প্রবেশ করে বাঘ হত্যা করে ফিরত বিজয়ীর বেশে। কার্যকর আইন, নজরদারি ও জনসচেতনতার অভাবে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাণীটি তখন ছিল চরম হুমকির মুখে।কিন্তু সময় বদলেছে। কঠোর আইন প্রয়োগ, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, ড্রোন নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বর্তমানে বাঘ হত্যা ও মানুষ-বাঘের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবুও চোরা শিকার, পাচার, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো নানা হুমকি এখনো সুন্দরবনের বাঘের অস্তিত্বের জন্য বড় উদ্বেগ।আজ (২৯ জুলাই) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষা করা নয় বরং পুরো ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।বাংলাদেশে বাঘ সংরক্ষণে প্রথম বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় ১৯৭৩ সালে, যখন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশের মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বাঘ শিকার, হত্যা, পাচার ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়। এরপর থেকে বন বিভাগ প্রযুক্তিনির্ভর সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করে।বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সর্বশেষ শুমারিতে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫টি। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০৬টি এবং ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি। ধারাবাহিক এই বৃদ্ধি সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।তবে গত প্রায় আড়াই দশকে পূর্ব সুন্দরবনে অন্তত ৯১টি বাঘের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে চোরা শিকারি ও পাচারকারীদের হাতে ২৬টি, বনদস্যুদের হাতে ১৮টি, গ্রামবাসীর পিটুনিতে ১৪টি, বার্ধক্যে ২১টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি বাঘ মারা গেছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন বাঘের চামড়ার সূত্র ধরে আরও কয়েকটি বাঘ পাচারের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সেসব ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষিত নেই। একই সময়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২৫ জন বনজীবী।তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। স্মার্ট পেট্রোলিং, নিয়মিত টহল, ড্রোন ও ক্যামেরা ট্র্যাপের ব্যবহার, বন অপরাধ দমন এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ বাঘের সংঘাত কমেছে। এর ইতিবাচক ফল হিসেবে ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে কোনো বাঘ হত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী। বন বিভাগের সদস্যরা সেটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা দেন। পরে গত ১২ জুলাই সুস্থ হওয়া বাঘিনীকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। বাঘিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণে বনাঞ্চলের প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বন বিভাগ এ ঘটনাকে বাঘ সংরক্ষণের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে দেখছে।এদিকে বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রাক্কালে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পূর্ব সুন্দরবনে দুই দফা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলেছে। প্রথমে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বন অফিস চত্বরে এবং পরে শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্যের টাইগার পয়েন্ট এলাকায় নদী সাঁতরাতে দেখা যায় একটি বাঘকে। দুটি ঘটনাই বনকর্মীদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।গত ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক বন অফিসের সামনে একটি বাঘিনী কিছুক্ষণ খোলা জায়গায় অবস্থান করে আবার জঙ্গলে ফিরে যায়। এরপর ২৬ জুলাই সকালে কচিখালী টাইগার পয়েন্ট এলাকায় টহলরত বন বিভাগের একটি বোটের সামনে একটি বাঘকে নদী সাঁতরাতে দেখা যায়। বোটের শব্দ শুনে বাঘটি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। বন বিভাগের স্মার্ট টিমের বোটচালক সাইফুর রহমান সেই বিরল দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের নদী-খাল পেরিয়ে বাঘের চলাচল তাদের স্বাভাবিক আচরণের অংশ। খাবারের সন্ধান, নিজের এলাকা পরিবর্তন কিংবা প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই তারা নিয়মিত সাঁতার কাটে। তবে এত কাছ থেকে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরকার সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, বন অপরাধ দমন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের কারণে বাঘ-মানুষের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সম্প্রতি সুন্দরবনে বাঘের চলাচলও আগের তুলনায় বেড়েছে। আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপন করা ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপে নতুন তিনটি বাঘের ছবি ধরা পড়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দরবনের বাঘকে নিরাপদ রাখাই আমাদের লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বন অনেকটাই মানব কোলাহলমুক্ত। ফলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক পরিবেশে অবাধে বিচরণ করছে এবং বন অপরাধও কমেছে।পরিবেশ সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর প্রধান সমন্বয়কারী ড. নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় বন বিভাগ, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করতে হবে। বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে, আর সুন্দরবন বাঁচলে উপকূলও নিরাপদ থাকবে।বাঘ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. এ. আজিজ বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, বাঘ রক্ষা করতে হলে আগে হরিণ রক্ষা করতে হবে। হরিণই বাঘের প্রধান খাদ্য। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাঘের আবাসস্থল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ রক্ষা মানে শুধু একটি প্রাণী সংরক্ষণ নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, তার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা। তাই বিশ্ব বাঘ দিবসে তাদের আহ্বান—চোরা শিকার ও পাচার বন্ধ, খাদ্যশৃঙ্খল সংরক্ষণ, বন ধ্বংস রোধ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক, কী আছে ১৪ দফায়?

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক, কী আছে ১৪ দফায়?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্মারকটিতে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে তেহরানের প্রতিশ্রুতিসহ মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্মারকের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলে জানা গেছে।স্মারকের উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ কার্যক্রম বন্ধ করবে। লেবানন-সংশ্লিষ্ট সংঘাতও এর আওতায় থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শক্তি প্রয়োগ বা হামলার হুমকি থেকেও বিরত থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে।উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। দুই পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যাবে।চুক্তির পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। বাণিজ্যিক নৌপরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে মাইন অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।ইরান অঙ্গীকার করবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিষয় চূড়ান্ত আলোচনায় নির্ধারিত হবে।চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচি অপরিবর্তিত থাকবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অতিরিক্ত সামরিক মোতায়েন করবে না।ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।আলোচনায় অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের জব্দ অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করে দেওয়া হবে।চূড়ান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন এবং এর ধারাগুলোর যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে একটি যৌথ তদারকি কাঠামো গঠন করা হবে।বর্তমান সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে উভয় দেশ। চূড়ান্ত চুক্তিকে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হবে।বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও চূড়ান্ত আলোচনার ওপর নির্ভরশীল।

রাজাপুরে ১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

রাজাপুরে ১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। অথচ এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১৩ জন শিক্ষক। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া ক্লার্ক, পিয়নসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন আরও পাঁচজন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে মোট জনবল ১৮ জন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। কাগজ-কলমে বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।সম্প্রতি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলছে। ছাত্রীদের অধিকাংশই বিদ্যালয়ে নেই। আর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বসে গল্প করতে দেখা যায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশও চোখে পড়েনি।স্থানীয়দের দাবি, একসময় বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিক্ষক সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি। নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়া, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তারা।গত বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টি থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজন পাস করেছিল। আর এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১২ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয়রা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে দিতে চান না। শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় পড়ালেখার মান খারাপ হয়েছে এবং ফলাফলও খারাপ হয়েছে।”ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলা করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা চলায় শিক্ষার্থীরা মাঠে রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের কেন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখব কী কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে। বর্তমানে ঢাকায় আছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান—সবকিছু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনবে।

বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট / বিশ্বকাপ দলগুলোর থাকার হোটেল ও অনুশীলন ক্যাম্প, কার ঠিকানা কোথায়?

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ২০২৬ বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শেষেই নিজ নিজ দেশের ক্যাম্পে যোগ দেবেন ফুটবলাররা। ১০৪ ম্যাচের এই দীর্ঘ বিশ্বযুদ্ধের বেশিরভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার মাটিতে।বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলারদের বিশ্রাম, পুষ্টি ও অনুশীলনের সুবিধা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি দলই ম্যাচ ভেন্যুর কাছাকাছি বেছে নিয়েছে নিজেদের বেস ক্যাম্প। তারকা ফুটবলারদের জন্য এসব ক্যাম্পে থাকছে আধুনিক পারফরম্যান্স ল্যাব, জিমনেসিয়াম ও বিলাসবহুল আবাসন ব্যবস্থা।পাঠকদের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের দলগুলোর বেস ক্যাম্প, অনুশীলনের ভেন্যু এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী দলসমূহআর্জেন্টিনা (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন)অবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: স্পোর্টিং কেসি পারফরম্যান্স সেন্টারআবাসন: হোটেল সেভয়, কানসাস সিটিআলজেরিয়া (১৬ জুন, কানসাস সিটি), অস্ট্রিয়া (২২ জুন, ডালাস), জর্ডান (২৭ জুন, ডালাস)।বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ক্যাম্পে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দোহা ক্যাম্পের মতোই এখানেও আলবিসেলেস্তেদের জন্য থাকছে তাদের ঐতিহ্যবাহী 'বার্বিকিউ মাংস' রান্নার বিশেষ কাস্টমাইজড সুবিধা। হোটেল থেকে অনুশীলন মাঠের দূরত্ব ২০ মিনিটেরও কম।ব্রাজিলঅবস্থান: নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সিঅনুশীলন: কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং施設 (নিউ জার্সি)আবাসন: রিজ হোটেল, নিউ ইয়র্ক সিটিম্যাচের সূচি: মরক্কো (১৩ জুন, নিউ জার্সি), হাইতি (১৯ জুন, ফিলাডেলফিয়া), স্কটল্যান্ড (২৪ জুন, মায়ামি)।পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা থাকার জন্য বেছে নিয়েছে ঝলমলে নিউ ইয়র্ক সিটি ('বিগ অ্যাপেল')। তবে তারা অনুশীলন করবে পার্শ্ববর্তী নিউ জার্সিতে এমএলএস দল নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন কেন্দ্রে।জার্মানিঅবস্থান: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলিনাঅনুশীলন: ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (ডব্লিউ ডেনি স্প্রি সকার স্টেডিয়াম)আবাসন: দ্য গ্রেলাইন এস্টেটম্যাচের সূচি: কুরাসাও (১৪ জুন, হিউস্টন), আইভরি কোস্ট (২০ জুন, টরন্টো), ইকুয়েডর (২৫ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।চারবারের চ্যাম্পিয়নরা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিলাসবহুল বুটিক হোটেল গ্রেলাইন এস্টেট বেছে নিয়েছে। ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির এই স্টেডিয়ামটি আমেরিকার অন্যতম সেরা কলেজিয়েট ফুটবল ভেন্যু। এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকবে না।ফ্রান্সঅবস্থান: ওয়ালথাম, ম্যাসাচুসেটসঅনুশীলন: বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়আবাসন: ফোর সিজনস হোটেল, বোস্টনম্যাচের সূচি: সেনেগাল (১৬ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি), ইরাক (২২ জুন, ফিলাডেলফিয়া), নরওয়ে (২৬ জুন, বোস্টন)।বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফরাসি দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই চলবে।ইংল্যান্ডঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: সোয়াপ সকার সেন্টারআবাসন: দ্য ইন অ্যাট মেডোব্রুকম্যাচের সূচি: ক্রোয়েশিয়া (১৭ জুন, ডালাস), ঘানা (২৩ জুন, বোস্টন), পানামা (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।হ্যারিকেনদের হোটেলটি তাদের অনুশীলন মাঠ থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ডের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডসও ঘাঁটি গেড়েছে।পর্তুগালঅবস্থান: পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডাঅনুশীলন: গার্ডেন নর্থ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্টস পার্কআবাসন: ফোর সিজনস হোটেলম্যাচের সূচি: ডিআর কঙ্গো (১৭ জুন, হিউস্টন), উজবেকিস্তান (২৩ জুন, হিউস্টন), কলম্বিয়া (২৮ জুন, মায়ামি)।১০টি মাঠের এই বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল অনুশীলন করবে। এর আগে এখানে রিয়াল মাদ্রিদ দল ক্লাব বিশ্বকাপের সময় অনুশীলন করেছিল।স্পেনঅবস্থান: চ্যাটানুগা, টেনেসিঅনুশীলন: বেলর স্কুলআবাসন: দ্য অ্যাম্বাসি সুইটসম্যাচের সূচি: কেপ ভার্দে (১৫ জুন, আটলান্টা), সৌদি আরব (২১ জুন, আটলান্টা), উরুগুয়ে (২৬ জুন, গুয়াদালাহারা)।চ্যাটানুগার একটি অভিজাত ব্যক্তিগত স্কুলে অবস্থান করবে স্পেন। দলের শতভাগ গোপনীয়তা বজায় রাখতে বেলর স্কুল তাদের ক্যাম্পাসে ১০ ফুটের ব্ল্যাকআউট বেষ্টনী তৈরি করেছে।নেদারল্যান্ডসঅবস্থান: কানসাস সিটি, মিসৌরিঅনুশীলন: কেসি কারেন্ট ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হোটেল কানসাস সিটিম্যাচের সূচি: জাপান (১৪ জুন, ডালাস), সুইডেন (২০ জুন, হিউস্টন), তিউনিসিয়া (২৫ জুন, কানসাস সিটি)।ডাচরা আমেরিকার প্রথম বিশেষায়িত নারী পেশাদার ক্রীড়া দলের (কানসাস সিটি কারেন্ট) কমপ্লেক্সে অনুশীলন করবে। ঐতিহ্যবাহী 'কমলা ডাবল-ডেকার বাস' নিয়ে এবারও মাতবেন ডাচ সমর্থকরা।বেলজিয়ামঅবস্থান: রেন্টন, ওয়াশিংটনঅনুশীলন: সিয়াটল সাউন্ডার্স ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: হায়াত রিজেন্সি, সিয়াটলম্যাচের সূচি: মিশর (১৫ জুন, সিয়াটল), ইরান (২১ জুন, লস অ্যাঞ্জেলেস), নিউজিল্যান্ড (২৬ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।ইতালি/অন্যান্য ইউরোপীয় দলসমূহ:ক্রোয়েশিয়া: অবস্থান ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া (এপিসকোপাল হাই স্কুল)। ম্যাচের সূচি: ইংল্যান্ড (১৭ জুন), পানামা (২৩ জুন), যুক্তরাষ্ট্র (২৭ জুন)।অস্ট্রিয়া: অবস্থান সান্টা বারবারা, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেলের নাম রিৎজ-কার্লটন।সুইডেন: ফ্রিসকো, টেক্সাস (এফসি ডালাস স্টেডিয়াম)। ১৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে তারা।সুইজারল্যান্ড: সান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া। হোটেল থেকে একাডেমির দূরত্ব মাত্র ৮ মিনিট।চেক প্রজাতন্ত্র: ম্যানসফিল্ড, টেক্সাস (ম্যানসফিল্ড মাল্টিপারপাস স্টেডিয়াম)।এশিয়ান ও আফ্রিকান পরাশক্তিদের ক্যাম্প:জাপান: অ্যান্টিওক, টেনেসি (ন্যাশভিল এসসি ভ্যান্ডারবিল্ট হেলথ ট্রেনিং সেন্টার)।সৌদি আরব: অস্টিন, টেক্সাস (অস্টিন এফসি স্টেডিয়াম)। ২০৩৪ বিশ্বকাপের একক আয়োজক দেশটি থাকবে অস্টিনের ফোর সিজনস হোটেলে।মিশর: স্পোকেন, ওয়াশিংটন (গনজাগা বিশ্ববিদ্যালয়)। মোহাম্মদ সালাহর দল মূলত পশ্চিম উপকূল কেন্দ্রিক ম্যাচগুলো খেলবে।আইভরি কোস্ট: চেস্টার, পেনসিলভানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন সুবারু পার্ক)।সেনেগাল: পিসকাটাওয়ে, নিউ (রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়)।ঘানা: স্মিথফিল্ড, রোড আইল্যান্ড (ব্রায়ান্ট বিশ্ববিদ্যালয়)।উজবেকিস্তান (নবাগত): ম্যারিয়েটা, জর্জিয়া (আটলান্টা ইউনাইটেড ট্রেনিং সেন্টার)।ইরাক: হোয়াইট সালফার স্প্রিংস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া (দ্য গ্রিনব্রিয়ার রিসোর্ট)। যেখানে পূর্বে ২৮ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবস্থান করেছেন, সেই রাজকীয় রিসোর্টে থাকবে ইরাক দল।আলজেরিয়া: লরেন্স, কানসাস (কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়)।লাতিন ও উত্তর আমেরিকার অন্যান্য দল:যুক্তরাষ্ট্র (স্বাগতিক): আরভাইন, ক্যালিফোর্নিয়া (গ্রেট পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্স)। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বিমানঘাঁটিতে তৈরি এই ক্যাম্পকে 'অনবদ্য' আখ্যা দিয়েছেন ইউএস সকারের ডিরেক্টর।অস্ট্রেলিয়া: ওকল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া (ক্লেয়ারমন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড ক্লাব)।প্যারাগুয়ে: সান জোসে, ক্যালিফোর্নিয়া (সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি)।ইকুয়েডর: কলম্বাস, ওহিও (কলম্বাস ক্রু পারফরম্যান্স সেন্টার)।ডিআর কঙ্গো: হিউস্টন, টেক্সাস (হিউস্টন স্পোর্টস পার্ক)।কেপ ভার্দে (নবাগত): টাম্পা, ফ্লোরিডা (ওয়াটার্স স্পোর্টসপ্লেক্স)।কুরাসাও (নবাগত): পাম বিচ কাউন্টি, ফ্লোরিডা (ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়)।জর্ডান (নবাগত): পোর্টল্যান্ড, ওরেগন (পোর্টল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়)।মেক্সিকো (স্বাগতিক)অবস্থান: মেক্সিকো সিটিপ্রশিক্ষণ ও আবাসন: সেন্ট্রো ডি আল্টো রেন্ডিমিয়েন্টো (CAR)ম্যাচের সূচি: দক্ষিণ আফ্রিকা (১১ জুন, মেক্সিকো সিটি), দক্ষিণ কোরিয়া (১৮ জুন, গুয়াদালাহারা), চেকিয়া (২৪ জুন, মেক্সিকো সিটি)।মেক্সিকো তাদের নিজেদের ঘরের মাঠের আবহ এবং উচ্চতার সুবিধা (Altitude Advantage) শতভাগ কাজে লাগাতে রাজধানীতেই ক্যাম্প করেছে। এই হাই-পারফরম্যান্স কেন্দ্রটি ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরে, যা একই সাথে খেলোয়াড়দের থাকা ও অনুশীলনের জায়গা হিসেবে কাজ করবে।কলম্বিয়াঅবস্থান: গুয়াদালাহারা, মেক্সিকোঅনুশীলন: অ্যাটলাস এজিএ একাডেমিআবাসন: গ্র্যান্ড ফিয়েস্তা আমেরিকানা কান্ট্রি ক্লাবউজবেকিস্তান (১৭ জুন, মেক্সিকো সিটি), ডিআর কঙ্গো (২৩ জুন, গুয়াদালাহারা), পর্তুগাল (২৭ জুন, মায়ামি)।বিশেষত্ব: ২০২৩ সালে উদ্বোধন করা এই আধুনিক পারফরম্যান্স সেন্টারে ছয়টি পেশাদার মাঠ এবং স্পোর্টস সায়েন্স মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।মেক্সিকোর অন্যান্য ক্যাম্প:দক্ষিণ কোরিয়া: গুয়াদালাহারা (চিভাস ভার্দে ভালে)। উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এই শহরটিকে বেছে নিয়েছে তারা।দক্ষিণ আফ্রিকা: পাচুকা (ইউনিভার্সিদাদ দেল ফুটবল)। এখানে একটি ফিফা-সার্টিফাইড মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।তিউনিসিয়া: মনটেনি (এল বারিয়াল ট্রেনিং সেন্টার)। লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রিমিয়াম ফুটবল সুবিধা এটি।প্লেয়া ডেল কারমেন, কুইন্টানা রু (মায়াকোবা ট্রেনিং সেন্টার)। বিমানবন্দর ও হোটেলের কাছাকাছি বিলাসবহুল রিসোর্ট সিটিতে থাকবে সুয়ারেজ-ভালভার্দের দেশ।কানাডা অবস্থান: ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলম্বিয়াঅনুশীলন: ন্যাশনাল সকার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারআবাসন: দ্য ওয়েস্টিন বেশোর, ভ্যাঙ্কুভারম্যাচের সূচি: বসনিয়া (১২ জুন, টরন্টো), কাতার (১৮ জুন, ভ্যাঙ্কুভার), সুইজারল্যান্ড (২৪ জুন, ভ্যাঙ্কুভার)।স্বাগতিক দেশের সুবিধা নিয়ে কানাডা ভ্যাঙ্কুভারে বেস ক্যাম্প করেছে। গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের ২টিই তারা ঘরের মাঠে খেলবে।পানামাঅবস্থান: নিউ টেকুমসেথ, ওন্টারিওঅনুশীলন: নোটাওয়াসাগা ট্রেনিং সেন্টারআবাসন: নোটাওয়াসাগা রিসোর্ট অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারম্যাচের সূচি: ঘানা (১৭ জুন, টরন্টো), ক্রোয়েশিয়া (২৩ জুন, টরন্টো), ইংল্যান্ড (২৭ জুন, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি)।কানাডা নিজেদের দল ছাড়া একমাত্র পানামাকেই তাদের দেশের মাটিতে বেস ক্যাম্প করার অনুমতি দিয়েছে।ইরানঅবস্থান: তিজুয়ানা, মেক্সিকো (যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের ঠিক বিপরীতে)ম্যাচের সূচি: নিউজিল্যান্ড (১৫ জুন), বেলজিয়াম (২১ জুন), মিশর (২৬ জুন)।রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা জনিত বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ইরানের বিশ্বকাপ ক্যাম্প নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দলটিকে স্বাগত জানালেও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। ফলে নির্বিঘ্নে অনুশীলনের জন্য আমেরিকার সান ডিয়েগোর ঠিক বিপরীতে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন, যা ফিফা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।সব মিলিয়ে ফুটবলারদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে আয়োজক শহরগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মাঠের লড়াইয়ে কোন ক্যাম্পের কৌশল কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

চাকরি

কোন পোস্ট নেই !
‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’

চাকসুর বিক্ষোভ / ‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’

বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। চাকসুর নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী হল প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা।মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় চাকসুর নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে ক্ষমতা দেওয়া হলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই সিদ্ধান্তটি অনতিবিলম্বে বাতিল করে আগের নিয়োগব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানান তারা।তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন এ সিদ্ধান্ত সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।২০১৫ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করে আসছে এনটিআরসিএ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংস্থাটি এখন থেকে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনলাইন জরিপ
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৪.০৫ টাকা বাড়াতে চায় বাস মালিকরা। আপনি কি বাস মালিকদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করছেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

এভিয়েশন

কোন পোস্ট নেই !

শিশু কিশোর

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !

আর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !